শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
গত বুধবার (৪ঠা মার্চ) সকালে ৯ টার সময় হঠাৎ সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পরিদর্শনে আসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল। কোন কর্মকর্তাকে না পেয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন মন্ত্রী। পৌনে ১০ টায় আসেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা। দেরিতে অফিসে আসার কারন জানতে চায় প্রতিমন্ত্রী। ভূমি কর্মকর্তাদের সঠিক উত্তর না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা ওমর ফারুক ও অফিস সহকারি ফাতেমা জান্নাতিকে শাস্তিমূলক বদলি করেন। তাদের বদলির একদিন পর সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ সহকারি ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথকে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পদায়ন করা হয়। বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের পদায়নের কথা জানতে পেরে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর মধ্যে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এলাকাবাসী বলেন, চোর গিয়ে এখন ডাকাত আসতেছে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। গোদনাইলের ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ একজন ঘুষখোর বিতর্কিত লোক। ওই এলাকার মানুষ তাঁর কাছে জমি সংক্রান্ত কোন কাজে গেলে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করতেন। চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতো। অনৈতিকভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ। শুধু তাই নয়, দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলি থাকাকালিন সময়ে ওই এলাকার বাসিন্দাদের ব্যাপক হয়রানি করেছেন।পরে এলাকাবাসীর তাড়া খেয়ে বক্তাবলি এলাকা থেকে দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথকে সরিয়ে নেন কর্তৃপক্ষ। ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ বিভিন্ন তদবির করিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। উনি যোগদান করার পর থেকে এলাকাবাসীকে নানান অজুহাতে হয়রানি ও এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেন দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ। পরে ওই জেলা প্রশাসক জাহিদুর আলমের কাছে ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ টি তন্তন করার জন্য এলএ শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি আক্তারকে দেন। শুধু ভুক্তভোগী নারীই নয়,,আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে। রহস্যজনক ভাবে এসব অভিযোগ দুলালের কিছুই করতে পারেনি। এলাকাবাসী আরও বলেন, আমরা বর্তমান জেলা প্রশাসক রায়হান কবির স্যারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি আপনার ভূমি কর্মকর্তা দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের বিষয়ে একটু খোজ-খবর নিলে তার অপকর্মের সবকিছু বের হয়ে আসবে। তাই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুলাল চঁন্দ্রের পদায়ন প্রত্যাহার করে অন্য কাউকে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
কদমতলী এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানায়, গত ১ বছর আগে আমার ক্রয়কৃত ৪ শতাংশ জায়গা নামজারি করার জন্য গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের কাছে যাই। উনি আমাকে বলে আপনার জায়গা অন্যজনের নামে নামজারি হয়ে গেছে। এটা ঠিক করতে হবে, তার পরে নামজারি হবে। এটা ঠিক করতে হলে ৫ লাখ টাকা লাগবে বলে জানায় দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ। তার চাহিদা মত টাকা দিতে পারিনি বলে আমার জায়গা এখনো পর্যন্ত নামজারি করতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং চাহিদা মত টাকা না পেলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করে। আমরা তার বিচার চাই।
জানা যায়, দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথ গোদনাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করার পর থেকেই ঘুষ বানিজ্য, গ্রাহক হয়রানি ও একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। তবে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তার খুটির জোর কোথায়?। দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পদায়ন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানাই আমরা সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, দুলাল চঁন্দ্র দেবনাথকে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঘুষ ও গ্রাহক হয়রানি বিষয়ে খতিয়ে দেখে এবং পূর্বে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন ভূমি কর্মকর্তা যদি অপরাধ করে তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জ প্রতিটি ভূমি অফিস আমাদের নজরে আছে, কোন অনিয়ম সহ্য করা হবেনা।